কোজাগরী
অনেক জখম পেরিয়ে এসে তখন, কন্যা সবে ইউটেরাসের সীমায়। চন্দ্র তখন মধ্যগগন ছুঁয়ে। আজকে নাকি শারদ-পূর্ণিমা।। "আবার মেয়ে!" মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, দেখলো না কেউ সুন্দরী কন্যাকে। কান্না-লগ্নে ভূমিষ্ঠ, তাই, সে আজ কাজল দিয়ে অশ্রু ঢেকে রাখে।। সুন্দরী, তাই মূল্যবিচার পণেই। ইচ্ছে ছিল সুশিক্ষিতা হবার। যে বয়সে শিক্ষা হতো শেষ, সেই বয়সেই সন্তান-সম্ভবা।। সফেদ চাদর, চিহ্ন রাঙা পায়ের। লক্ষ্মী-প্রবেশ বলেই উলুধ্বনি। জন্ম, রজ:ক্রিয়া, বিয়ে, প্রসব। এসব শেষে শুধুই বিসর্জনই।। ভাত-কাপড়ের দায়িত্বটাই শেষ? এগিয়ে দেখো, হাতড়ে পাবে মন। নয়তো অভাব থাকবে চিরকালীন। ভ্রান্ত তোমার লক্ষ্মী আবাহন।। অনেক জখম পেরিয়ে এসে যখন, কন্যা পেরোয় শেষসীমানার দড়ি। ঢাক ও শাঁখে বরণ করো তাকে। কিংবা হোক আজ নষ্ট কোজাগরী।। লিখিত- উত্তরপাড়া, অক্টোবর ২০১৯ (অপ্রকাশিত)