Posts

Showing posts from December, 2019

কোজাগরী

অনেক জখম পেরিয়ে এসে তখন, কন্যা সবে ইউটেরাসের সীমায়। চন্দ্র তখন মধ্যগগন ছুঁয়ে। আজকে নাকি শারদ-পূর্ণিমা।। "আবার মেয়ে!" মুখ ফিরিয়ে নিয়ে, দেখলো না কেউ সুন্দরী কন্যাকে। কান্না-লগ্নে ভূমিষ্ঠ, তাই, সে আজ কাজল দিয়ে অশ্রু ঢেকে রাখে।। সুন্দরী, তাই মূল্যবিচার পণেই। ইচ্ছে ছিল সুশিক্ষিতা হবার। যে বয়সে শিক্ষা হতো শেষ, সেই বয়সেই সন্তান-সম্ভবা।। সফেদ চাদর, চিহ্ন রাঙা পায়ের। লক্ষ্মী-প্রবেশ বলেই উলুধ্বনি। জন্ম, রজ:ক্রিয়া, বিয়ে, প্রসব। এসব শেষে শুধুই বিসর্জনই।। ভাত-কাপড়ের দায়িত্বটাই শেষ? এগিয়ে দেখো, হাতড়ে পাবে মন। নয়তো অভাব থাকবে চিরকালীন। ভ্রান্ত তোমার লক্ষ্মী আবাহন।। অনেক জখম পেরিয়ে এসে যখন, কন্যা পেরোয় শেষসীমানার দড়ি। ঢাক ও শাঁখে বরণ করো তাকে। কিংবা হোক আজ নষ্ট কোজাগরী।। লিখিত- উত্তরপাড়া, অক্টোবর ২০১৯ (অপ্রকাশিত)

বিচ্ছেদ

সদর দরজা বন্ধ হলে, পথ আটকে যায় অন্দরে প্রবেশের, আমরা যখন যেখানে যাই, কষ্ট বেঁধে আনি জুতোর লেসে। বাদলা ঘিরে এলে, তাকে মনখারাপের সূত্র বলে ভাবা, বুঝলে যখন গুরুত্বটা, আমার তখন সময় হল যাবার। শেষ যদি এই আয়ু, তবে কি হবে লাভ হস্তাক্ষর রেখে? ডিপ্রেশনের সময় মানুষ আগলে ক্ষত বৃহৎ হতে শেখে। তোমার কথা বলব ভেবে, নিজের কথা লিখতে পারি নিপুণ, অতীত মানে পশ্চাতে টান, মানুষ মানেই শিকার ষড়রিপুর। আরেকটা বার জখম হয়ে একলা থাকার মতন কোনো শোকে, কাঁদতে কাঁদতে, একটা কিশোর ফিরবে বলে এঁটেছে ভেলক্রো-কে। আর এভাবেই পাথর হয়ে আঘাতগুলো ভুলতে পারাই প্রথা, ঠিক যেভাবে পেনের নিবে জন্ম নিচ্ছে প্রগাঢ় স্থূলতা। যে কলমের মুখটা ভোঁতা, কি হবে তার দোয়াত, কালি চিনে? তারচে' এস আমরা বরং আলাদা হই ভাদ্রে বা আশ্বিনে। লিখিত- উত্তরপাড়া, মার্চ ২০১৯ প্রকাশিত- "দুই মলাটে কবিসভা" সংকলন (কচিপাতা পত্রিকা)

গ্যাজেট

আনন্দ সব তোমারই হোক, বুকের উপর সব ক'টা দাগ আমার, যেমন জলে জাহাজ হেঁকে, হিস্ট্রিতে খুব বিখ্যাত ডা-গামা। হয়ত কোনো বিকেল বেলায় ইচ্ছা হবে গুপ্ত আবিষ্কারের, গুলতে চিনি কফির কাপে আলগা চামচ থামলে, ভাবিস কারে? সেসব কথা ভাবতে গিয়ে দৃষ্টিও তোর ঝাপসা হচ্ছে আরো, কষ্ট হলেই অশ্রু লুকোস, কারণ? বয়স বেড়েছে চশমারও। আজ বাদে কাল পুড়তে হবে, চিতার উপর শরীরটাকে রেখে, ঊনিশ-বিশের যেটুকু ফাঁক, সেটাই ফারাক কফিন ও পেরেকে। সবশেষে সেই ঘুমিয়ে পড়া, খেলার সময় সাঙ্গ হলে, ল্যাজে, সব মানুষই চোরপকেটে লুকিয়ে রাখা ডোরেমনের গ্যাজেট। লিখিত- উত্তরপাড়া, মার্চ ২০১৯ প্রকাশিত- "দুই মলাটে কবিসভা" সংকলন (কচিপাতা পত্রিকা)

বিমূর্ত

ধড় ও মাথা পৃথক করে, সৃষ্টিকর্তা কি ধূর্ত! আদর করে চিত্রকলার নাম রেখেছেন 'বিমূর্ত'। একটা লেখা ভীষণ কাঁচা, অন্যটা ঠিক বোঝাই দায়, আর বাকিরা ছন্দবিহীন, ছন্নছাড়া, খুব কাঁদায়। কেউ বলেছে 'শ্রেষ্ঠ এটাই', 'বিচিত্র এই স্থাপত্য', শেষ হল না, তারই আগেই! বক্তা বড় আপদ তো! এইটে আসল ফটোগ্রাফি, ওইটে চিন্তাভাবনাহীন, ঠিক বলেছেন, মুখ্যু আমি, আমায় একটু জাবনা দিন। ভাবের ঘরে অভাব আমার, কারণ আমি মনুষ্যই, ঈশ্বরেরই মূর্তি গড়ে, বলছ তাকে বিমূর্তই। লিখিত- উত্তরপাড়া, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ প্রকাশিত- ভাষা পত্রিকা (শারদীয়া ২০১৯)

কাঁচ

হুট করে আসা সম্পর্কের পোকা, চর্বি-জমা মাথায় নড়ে ওঠে। আমরা বোকার থেকেও হদ্দ-বোকা, ভাবি, প্রেম টবে গোলাপ হয়েই ফোটে। ভালোবাসা, সিমপ্যাথি - সব মেকি, তবুও মানুষ ভালোবাসায় বাঁচে। মাটির টবে ফুটেছে প্রেম, ফেক-ই, হাত কেটে গেছে সম্পর্কের কাঁচে। লিখিত- উত্তরপাড়া, ২২শে জুন, ২০১১ প্রকাশিত- শব্দসাঁকো (বসন্ত ক্রোড়পত্র, ২০১৯)

প্রেম সিরিজ

১ তোমার ঠোঁটে বৃষ্টি নামুক, অঝোরধারায়, তোমায় শুধু দেখবে বলে সহস্র চোখ। নীল সালোয়ার, নূপুর পায়ে; কাঁপছে পাড়া, তোমার জন্যে লবণ-আইন অমান্য হোক। ২ তোমার দিকে এগিয়ে গেছি। আবেশ না ঝোঁক? এমন বিকেল গিলতে থাকুক। অগ্নি-শাবক। কি বলছো কি? প্রেম প্রকাশি, এক স্তবকে? কি ক্ষমতা? আমার মতো আহাম্মকের? লিখিত- উত্তরপাড়া, ১১ই মার্চ, ২০১১ প্রকাশিত- শব্দসাঁকো (কলকাতা বইমেলা ক্রোড়পত্র, ২০১৮)

ইত:স্তত এবং বিক্ষিপ্ত

১ পাতাঝরা হেমন্তের শান্ত গোধূলিতে আমি ময়দানে উড়ে বেড়ানো একটা পলিথিন ব্যাগে মুখ লুকোই। দুটো ছিল উড়ে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব ঠিকানায়, ডানার পালকের নীচে কিছু ক্ষতকে আড়াল করে। বটগাছের ডালটায় দুটো কাক হঠাৎ করে ডেকে উঠলো- সঙ্গীদের জানালো, ফন্দি শেষ। বেজে উঠলো শাঁখ। গাড়ির হর্ন। যুদ্ধ হবে। জানো? যুদ্ধ। দূরে কোনো বিক্ষোভ সমাবেশে, কারও কুশপুতুল পুড়ছে। ব্যস্ত রোদ্দুর আস্তে আস্তে পা ছুঁয়ে, ট্রামরাস্তার ওপারে। ডুবে গেল। গাড়িগুলো যে যার গন্তব্যে... ঘাসের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো শিশির আমিও এবার উঠবো ভাবছি। এখনও হয়ত নিথর নেতাজি শ্যামবাজারের মোড়ে, তার বোবা ঘোড়াটাকে দিল্লি যাবার দিকনির্দেশ করে চলেছেন... ২ চাঁদের উল্টো পিঠে কি আছে? নোনা মেঘ? পরাগের ধুলো-রা? ওখানে চরকাকাটা বুড়ি যদি বাঁচে এখানে বসন্ত পেরিয়ে চড়ুই? না! পাহাড়ের ওপারে কি রাজবাড়ি? ওরা পাঠিয়েছে চিতাকাঠ। এসেছে সেপাইগুলো সব। ফেরিওয়ালাও আসবে... কেউ কথা রাখেনি। কিন্তু মেয়েটা? ছেলেটা শুধু মরার জন্যে জন্মেছে। মেয়েটাকে তুমি কাল সকালেও দেখতে পাবে। সে এই পথে ফের, ফুল কুড়োতে যাবে। ৩ (It was a world of HUGE shadows, but I was only a NAME...) আয়নার ওপারে একটা দুনিয়...

ফ্যান্টাসি

১ ৩৬০ ডিগ্রি জুড়ে ঢেউ। বিপদসীমাকে ছুঁয়ে, কেউ ঝরাপাতা এক... দুই... তিন... জৈব, দৈব নাকি মনুষ্যত্বহীন? আজ কে বাঁচাতে আসে, তোমায়? ২ প্রচন্ড উত্তাপ ও চাপে বিস্ফোরণ উপহার পেয়েছিল গ্রহটি। সিলিকার কুচি। অনিবার্য ক্ষয়। উপগ্রহের সাথে দেহ বিনিময়। মোহ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েও আবার ঢুকে পড়া। ডিমের ভিতর। আসলে অপ্সরারাই ইন্ধন দিত... লিখিত- উত্তরপাড়া, ২রা জুন, ২০১৬ প্রকাশিত- অক্ষর সংলাপ পত্রিকা (বর্ষবরণ সংখ্যা, ১৪২৬)

বাইশে শ্রাবণ

আকাশ হয়ে গেছো তুমি তো কবে সেই, আমি তো মাটি হয়ে স্থির, স্থবির; শরীরে তারা-খসা, চোখে প্রথিতযশা খোঁপাতে 'ক্যামেলিয়া' বান্ধবীর। বাতাস-দ্রবীভূত শ্রাবণ-সন্ধ্যায়, পাইন-সারি জুড়ে বিষাদ-গীত, এমন পরিবেশে, মিয়ানো হাতগুলো সহজে ছুঁয়ে যায় পিয়ানো-রিড। ভীষণ বেদনাতে পাঁজর ভেঙে যায়, ছবিও সেজে ওঠে চন্দনে, রজনীগন্ধা-কে কে যেন বলেছিলো, তোমাকে ছাড়া তার গন্ধ নেই। আকাশও পরে নেয় মেঘের বর্ষাতি, বাষ্পে ঢেকে আসে দৃষ্টি আজ, চোখের কোণে জ্বলে যেটুকু চিকচিক, সেটুকু আজকের বৃষ্টি-সাজ। পাতারা খসে গেলে, বৃক্ষ ব্যথা পেলে, আত্মা দেহ রেখে অসীমে যায়... সে যেতে পারে নি তো! হৃদয়ে কান পাতো, বাদলা-ঘনীভূত এ' সন্ধ্যায়। লিখিত- উত্তরপাড়া, ৮ই আগস্ট, ২০১৯ (অপ্রকাশিত)