ইত:স্তত এবং বিক্ষিপ্ত

১

পাতাঝরা হেমন্তের শান্ত গোধূলিতে
আমি ময়দানে উড়ে বেড়ানো একটা
পলিথিন ব্যাগে মুখ লুকোই।

দুটো ছিল উড়ে যাচ্ছে
তাদের নিজস্ব ঠিকানায়,
ডানার পালকের নীচে কিছু ক্ষতকে
আড়াল করে।

বটগাছের ডালটায় দুটো কাক
হঠাৎ করে ডেকে উঠলো-
সঙ্গীদের জানালো, ফন্দি শেষ।
বেজে উঠলো শাঁখ। গাড়ির হর্ন।
যুদ্ধ হবে। জানো? যুদ্ধ।

দূরে কোনো বিক্ষোভ সমাবেশে,
কারও কুশপুতুল পুড়ছে।

ব্যস্ত রোদ্দুর আস্তে আস্তে পা ছুঁয়ে,
ট্রামরাস্তার ওপারে। ডুবে গেল।
গাড়িগুলো যে যার গন্তব্যে...

ঘাসের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো শিশির
আমিও এবার উঠবো ভাবছি।

এখনও হয়ত নিথর নেতাজি শ্যামবাজারের মোড়ে,
তার বোবা ঘোড়াটাকে দিল্লি যাবার
দিকনির্দেশ করে চলেছেন...


২

চাঁদের উল্টো পিঠে কি আছে?
নোনা মেঘ? পরাগের ধুলো-রা?

ওখানে চরকাকাটা বুড়ি যদি বাঁচে
এখানে বসন্ত পেরিয়ে চড়ুই? না!

পাহাড়ের ওপারে কি রাজবাড়ি?
ওরা পাঠিয়েছে চিতাকাঠ।
এসেছে সেপাইগুলো সব।
ফেরিওয়ালাও আসবে...

কেউ কথা রাখেনি। কিন্তু মেয়েটা?

ছেলেটা শুধু মরার জন্যে জন্মেছে।

মেয়েটাকে তুমি কাল সকালেও দেখতে পাবে।

সে এই পথে ফের,
ফুল কুড়োতে যাবে।


৩

(It was a world of HUGE shadows, but I was only a NAME...)

আয়নার ওপারে একটা দুনিয়া ছিলো-
জীবাশ্ম কিংবা
দুর্ভেদ্য বিশালকায় ছায়া দিয়ে গঠিত।
নাম নয়।

নিশুতি সমাধিক্ষেত্রে
অপরিচিতেরা শুয়ে থাকে।

আমি তোমার সমাধিটা খুঁজি

কেন তোমার কবরটাতেও
অন্য কিছু লেখা ছিল
নাম নয়...

লিখিত- উত্তরপাড়া, ১২ই জুলাই, ২০১০
প্রকাশিত- কল্পনালতা (উৎসব সংখ্যা, ১৪২১)

Comments

Popular posts from this blog

কোজাগরী