পর্ণমোচন

গন্তব্যহীন ট্রাফিক। সিগন্যালে থমকে দাঁড়িয়েছে। তা অবশ্য কিছুক্ষণের জন্য। গাড়িগুলো থেকে থেকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে। বাতাসে মুক্ত করছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড। বিষ।

তোমাকে দেখা যায়। রাস্তার ওপারে। তুমি বামহাতে ওড়না নিয়ে, মুখে জাপ্টে থাকা ধূলোঘামের কোলয়েড মুছছো।

আমারও ব্যাগের ভিতর হাজারো ক্যামোফ্লাজ... ভিড়...

তখন সূর্যটা হলুদ, আকাশটা নীল, আর, একটা কাক উড়ে যাচ্ছে আকাশে। অনেকটা ছেলেবেলার স্কেচবুকে আঁকাবাঁকা ছবির মত।

এখনও বৃষ্টি আসেনি।

লিখি-
 "বুকের মধ্যে সিঁটিয়ে থাকুক উষ্ণতা-রা
উষ্ণতারা; তোমার চিবুক আঁকড়ে ধরুক।"  -এবং কেটে দিই।

ঘড়ির কাঁটাতার ডিঙিয়ে, কুয়াশাভাঙা জল মেখে গায়ে, পেরিয়ে যায় এঁদোগলির গানওয়ালা...

আমি দাঁড়িয়ে সবটা দেখি জানলায়। টেলিফোনটা বেজে ওঠে। আমি কানে তুলি। একটা চিৎকার শুনতে পাই; আক্রান্তের মত তীব্র স্বর ভেসে আসে ওপার থেকে। কানের পর্দা দুলিয়ে দেয়। কোনও গণিকা তার অবৈধ, বন্ধ্যা পুত্রভ্রূণের জন্ম দিচ্ছে বুঝি! হাসপাতালের মত গন্ধ আসছে একটা। আমি বালিশের তলায় চাপা পড়ে থাকা প্রাগৈতিহাসিক রিভলবারটা খুঁজে বার করি। মাথায় ঠেকাই।


বিশ্বাস করো, তারপর থেকে আর কোনোদিন কাউকে স্পর্শ করিনি। আর কোনো শরতের শেষে, কোনো পাতাও খসে পড়েনি।


লিখিত- উত্তরপাড়া, ৩১শে মার্চ, ২০১৬
প্রকাশিত- চারকোল (গ্রীষ্ম ১৪২৪), ছাইয়ের থেকে অস্তিত্বের দিকে, উত্তরপাড়া

Comments

Popular posts from this blog

কোজাগরী